গুলেন বারি সিনড্রোম

GBS

 

গুলেন বারি সিনড্রোম ( ইংরেজি Guillain–Barré syndrome) বা ল্যান্ড্রির প্যারালাইসিস,প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণকারী অ্যাকিউট বা তীব্র পলিনিউরোপ্যাথি রোগ যার ফলে হাত-পা খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে।কোন সংক্রমণ বা ইনফেকশনের পর এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।অনুভূতিতে ভিন্নতা কিংবা ব্যাথার পর হাতে এবং পায়ে দুর্বলতা দেখা যায় যা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।রোগ খুব তীব্র হলে প্রাণঘাতী হতে পারে,তখন কৃত্তিমভাবে শ্বাসকার্য চালানোর জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা নিবিড় পর্‍যবেক্ষণে রাখা হয়।কিছু ব্যক্তির স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে ডিসঅটোনমিয়া হলে হৃদ স্পন্দন ওরক্তচাপে গোলযোগ দেখা যায়।

ক্লিনিক্যালি এই রোগ অন্যান্য বিকল্প কারণ ব্যতিরেকে স্নায়ু পরিবহন পরীক্ষা ও সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।যাদের অবস্থা সংকটাপন্ন,তাদের আন্তঃশিরা ইম্যুনোগ্লোবিউলিন বা প্লাসমাফেরেসিসের মাধ্যমে নিবিড় পর্‍যবেক্ষণে উত্তরণ হওয়া সম্ভব,যদিও কিছু ব্যক্তির ব্যাথা,হাঁটাচলায় সমস্যা থাকতে পারে।গুলেন বারি সিনড্রোম বিরল,প্রতি ১,০০,০০০ জনে এক/দুটি কেস দেখা যায়।এই রোগের নামকরণ ফরাসি চিকিৎসক জর্জ গুলেন ও জিন আলেকজান্ডার বারির অনুসরণে হয়েছে,যারা ১৯১৬ সালে আন্দ্রে স্ট্রোলের সাথে বর্ণনা করেছিলেন।

লক্ষণ

  • এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:
  • পায়ে দুর্বলতা অনুভব করা
  • পায়ে ব্যথা
  • অনুভূতি কমে যাওয়া
  • জ্বর
  • সারা শরীরে ব্যথা
  • মাথা ধরা
  • ত্বকে অস্বাভাবিক অনুভূতি হওয়া
  • দুর্বলতা
  • নড়াচড়া করতে সমস্যা হওয়া
  • হাতে এবং আঙ্গুলে ব্যথা
  • কথা বলতে কষ্ট হওয়া
  • মুখমণ্ডলে ব্যথা

পরিণতি

গুলেন বারি সিনড্রোম হতে কিছু জটিলতা ,যেমন – তীব্র সংক্রমণ বা ইনফেকশন,রক্তজমাট ইত্যাদি কারণে মৃত্যু হতে পারে।সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার পরেও এর পরিমাণ ৫ শতাংশ।

অধিকাংশ রোগীর প্রথম এক থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত লক্ষণ বেশি দেখা যায়। চতুর্থ সপ্তাহ থেকে অবস্থার উন্নতি হতে থাকে,কিন্তু এই উন্নতির হারের কিছু হেরফের আছে। ৮০% মানুষই কয়েক মাস থেকে বছর খানেকের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ্ হয়ে উঠে,যদিও সামান্য কিছু ছোটখাট সমস্যা থাকতে পারে।সুস্থ্ হয়ে উঠার পরও প্রায় ৫-১০% মানুষের কিছু শারীরিক অক্ষমতা দেখা যায়।আবার ৫-১০% মানুষের পরবর্তিতে পুনরায় রোগাক্রান্ত হবার আশঙ্কা আছে।

গবেষণায় গুলেন বারি সিনড্রোম থেকে সুস্থ্ হয়ে উঠা ব্যক্তিদের ০ -৬ স্কেলে গ্রেডিং বা শ্রেণীভাগ করা হয়,যেখানে ০-পরিপূর্ণ সুস্থ,১-খুব স্বল্প সমস্যা কিন্তু দৌড়াতে সক্ষম,২-হাঁটতে সক্ষম,কিন্তু দৌড়াতে অক্ষম,৩-কোন ছড়ি বা সাপোর্টের প্রয়োজন,৪-বিছানা বা চেয়ারে পড়ে থাকা অবস্থা,৫-দীর্ঘমেয়াদি কৃত্তিমভাবে শ্বাসকাজ চালানো,৬-মৃত্যু।

গুলেন বারি সিনড্রোমের রোগোত্তর অবস্থা বয়সের উপর(৪০ বছরের উপরে খুব কম উন্নতি) ও লক্ষণের দুই সপ্তাহ পরের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।যাদের ডায়রিয়া থেকে এ রোগ হয়েছে,তাদের অবস্থা খুব একটা ভাল হয় না।

রোগতত্ত্ব

পাশ্চাত্যে এই রোগের ঘটনা প্রতি ১,০০,০০০ জনে ০.৮৯ থেকে ১.৮৯।বড়দের থেকে শিশু ও কিশোররা কম আক্রান্ত হয়।প্রতি দশ বছরে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি ২০% বেড়ে যায়। নারীদের থেকে পুরুষের গুলেন বারি সিনড্রোম হবার সম্ভাবনা ১.৭৮ গুণ বেশি।

ডাঃ আব্দুল কাইয়ুম রাব্বী (পিটি)

বি.এসসি ইন ফিজিওথেরাপি (ঢাবি-SCHS) (ইন্টার্ন পিটি)

যোগাযোগঃ ০১৯৩৫৪২৪৪৮১/০১৮৬৬১১৮৪২৬

ই মেইলঃ Physiorabbi@gmail.com

(সংগৃহীত)

Leave a Reply

Need help? e-Mail us here! Chat With Us Now!

← Prev Step

Thanks for contacting us. We'll get back to you as soon as we can.

Please provide a valid name, email, and question.

Powered by LivelyChat
Powered by LivelyChat Delete History